ব্যাংকারদের বেতন বৈষম্য

 সব ক্রাইসিসের মধ্যেও ব্যাংক বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের কর্মীদের ভালো বেতন ভাতা দিয়ে থাকে,যার ফলে অন্যদের মতো তারা এতোটা আর্থিক কষ্টে পড়ে না। কিন্তু আলোর নিচে আছে অন্ধকার। ব্যাংকারদের বাইরে একটা বিশাল সংখ্যক মানুষ ব্যাংকগুলোতে কাজ করে, তারা কিন্তু ব্যাংকার নন, তারা হলেন আউটসোর্সড কর্মী। তাদের পদমর্যাদা হলো বার্তাবাহক, ক্লিনার, সিকিউরিটি গার্ড। এদের বেতন (!!!) পাঁচহাজার থেকে সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা।তা থেকে আবার নিয়োগকারী কোম্পানি একচাটা দেয়, ফলে তাদের হাতে শেষপর্যন্ত কতটা পৌঁছে? এরমধ্যে আবার সিকিউরিটি গার্ড যারা তাদের আবার ইউনিফর্মের সাথে টাই পরতে হয়। অর্থাৎ মাথায় চুল নেই -------!!



বর্তমান আক্রার বাজারে এই সামান্য অর্থ দিয়ে ক'দিন চলা যায়? এরমধ্যে আবার যারা ঢাকার মতো বড় শহরে দায়িত্ব পালন করেন তাদের অবস্থা আরো শোচনীয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকই প্রথম এই আউটসোর্সিং চালু করে। সেখানে বিভিন্ন খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয় সেখানে খরচ বাঁচানোর নামে এই ধরনের অনাচার কোন ভাবেই গ্ৰহনযোগ্য নয়।এই নিম্নপদের কিছু মানুষ কে চাকরি দিতে গেলেই কি প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যাবে? মানুষ নিতান্তই নিরুপায় হয়ে এই সামান্য বেতনের চাকরিতে যোগ দিতে বাধ্য হয়, কিন্তু দৈনন্দিন জীবন চালাতে হিমশিম খায়। না পারে চাকরি ছাড়তে, না পারে জীবন যাপন করতে। তারপর আবার যারা বুথে ডিউটি করে তাদের অবস্থা আরো শোচনীয়।আট ঘন্টার ডিউটি সময়ে শৌচাগারের কোন ব্যাবস্হা নেই, নেই গরমের সময় ফ্যানের ব্যাবস্হা।এই প্রচন্ড গরমের মধ্যে প্যান্ট, শার্ট, সাথে টাই পরে তারা হাঁফাতে থাকেন, দায়িত্ব পালন করবেন কি করে?

এইসব খাতে এতো এতো মানবিক বড় বড় মানুষ আছে তারা কেউ কি দয়া পরবশ হবেন এই সব নিম্ন আয়ের মানুষদের প্রতি।যাতে তারা একটু স্বস্তির সঙ্গে দিনাতিপাত করতে পারে।

0 Comments