থার্ড পার্টি ব্যাংক জবের করুণ কাহিনি

 ব্যাংকে কর্মরত আরেকশ্রেণীর জীব আছে যারা না ব্যাংকার, না অন্যকিছু।এরা হলো থার্ড পার্টির সরবরাহকৃত ব্যাংকার নামক এক ধরনের প্রাণি,যারা ব্যাংকের যাবতীয় কাজ করে কিন্তু সুযোগ সুবিধার বেলায় আউটসোর্স্ড। ওদের না আছে নিয়মিত বেতন ভাতা,না আছে অন্য কোন সুযোগ সুবিধা। শুরুতেই ওদের চাপে রাখার জন্য একটা টার্গেট মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হয় যেটা অর্জন করা খুবই কঠিন। কতৃপক্ষ ও চায় যাতে ওরা টার্গেট অর্জন করতে না পারে তাহলে ওরা কখনো চাকরি স্থায়ী করার দাবি করতে পারবে না, ইচ্ছে হলেই বাদ দিয়ে দেওয়া যাবে।অথচ শিক্ষাগত যোগ্যতা বলেন আর চেহারা সুরত বলেন সব কিছুই অন্যদের মতো শুধু চাকরির সুবিধার বেলায় ওরা হরিজন। ওদের যে একটা পরিবার আছে, ওদের সামাজিক মর্যাদা আছে, ওদের নুন্যতম চাহিদা আছে এটা ভাবার কেউ নেই।



ব্যাংকগুলো বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অর্জিত মুনাফার ৩৭.৫০% সরকারি কর দিতে হয়। সেখানে যদি এদের মতো অবহেলিতদের সুযোগ সুবিধা একটু গ্ৰহনযোগ্য হলে ব্যাংকের নিজস্ব খরচ খুব একটা বাড়বে না।কারণ প্রতি একটাকা খরচের মধ্য ব্যাংকের নিজস্ব খরচ মাত্র সাড়ে বাষট্টি পয়সা।অথচ সুযোগ  পেলে অসহায় মানুষ গুলো পরিবার পরিজন নিয়ে একটু স্বাচ্ছন্দ্যের দিনাতিপাত করতে পারবে। তাতে কারো অসুবিধা হবে এটা মনে হয় না।

হালে ব্যাংকগুলোতে আরেক শ্রেণীর উদ্ভব হয়েছে তারা হলো আলট্রাপুয়োর পারফর্মার।২০/২৫ বছর যথেষ্ট সুনামের সাথে চাকরি করার পর এখন তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে আলট্রা পুয়োর পারফর্মার নামে। অর্থাৎ সরাসরি বের করে দিতে লজ্জা লাগছে এজন্য এমন অবস্থার সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে ওরা নিজেরাই বাধ্য হয়ে চলে যায়। চিন্তা করে দেখুন একজন মানুষ যিনি ২০/২৫ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ব্যায় করেছেন এখন শেষ বয়সে তাকে মাথায় অপবাদ নিয়ে বিদায় নিতে হচ্ছে। পাশের সহকর্মী জানছে তিনি পুয়োর পারফর্মার, তিনি হয়তো ঘৃণায়, ভয়ে তার সাথে কথাও বলবেন না। তাহলে এই অপবাদ মাথায় নিয়ে কাজ করবেন কিভাবে? সারাক্ষণ যার মাথায় থাকবে পুয়োর পারফর্মারের চাপ তার পক্ষে স্বাভাবিক কাজ করা আদৌ সম্ভব?হাতের পাঁচ আঙুল যেমন সমান নয়, তেমনি সব কর্মী একই মানের হবে এটা যথার্থ নয়। মানুষ কি মানুষ কে বিচার করতে পারে? কেউ হয়তো ভালো কর্মী, তার বসের সাথে কোন কারণে মিলছে না, অমনি সে হয়ে গেল পুয়োর পারফর্মার। তুচ্ছ কারণে মানুষের রুটি রুজিতে আঘাত করলে এর ফল একসময় ঠিকই ভোগ করতে হবে ঐসব উদ্যোক্তাদের। তারা নিজেরা এখন মৌজে আছেন তাই বুঝতে পারছেন না,যখন বুঝবেন তখন কিন্তু সময় থাকবেনা। মনে রাখবেন আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর।

0 Comments